সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় সরকারি খাস জমি জালিয়াতির মাধ্যমে বন্দোবস্ত নেয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, একাধিক খতিয়ান ও দাগে জমির মালিক হয়েও কিছু ব্যক্তি নিজেদের ‘ভূমিহীন’ সাজিয়ে সরকারি জমি দখল করেছেন এবং প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিতদের উচ্ছেদের চেষ্টা করছেন।
সম্প্রতি (২৫ জুন) জামালগঞ্জ উপজেলার বুতিয়ারপুর গ্রামের বাসিন্দা গোলাপ মিয়া সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, প্রায় ৩০ বছর ধরে তিনি ও আশপাশের আরও কয়েকটি পরিবার সরকারি আইডব্লিউটির পরিত্যক্ত জমিতে মাটি ভরাট করে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল নিজেদের জমি থাকা সত্ত্বেও ‘ভূমিহীন’ সাজিয়ে ওই জমি জালিয়াতির মাধ্যমে বন্দোবস্ত নেয় এবং বাসিন্দাদের উচ্ছেদের পাঁয়তারা শুরু করে।
গোলাপ মিয়ার অভিযোগ, এসব ভুয়া বন্দোবস্ত প্রাপ্তরা মামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এমনকি ইতোমধ্যে আদালতে মামলা করে জমি ছাড়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।
স্থানীয় শরিফপুর গ্রামের বাসিন্দা হাবিব বলেন, “নুরুল আমিন জীবিত থাকাকালে আমাদের বৈধ জমির ওপর বন্দোবস্ত দেখিয়ে মামলা করেছিলেন। আদালত আমাদের পক্ষে রায় দিলেও এখন তার ছেলে দেলোয়ার গং পুনরায় বিভিন্ন পরিবারকে হয়রানি করছে।”
তিনি আরও জানান, দেলোয়ার ও তার সহযোগীরা পানি নিষ্কাশনের খালসহ প্রায় ১৫-২০টি পরিবারকে টার্গেট করে একের পর এক মামলা দিচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শামসুল হক অভিযোগ করে বলেন, “দেলোয়ার পেশায় কোর্টের মুহুরি হলেও প্রভাব খাটিয়ে বাবার নামে একাধিক খাস জমি বন্দোবস্ত নিয়ে নিয়েছে। এখন সে এলাকায় ফিরে এলে মারধরের হুমকি দেয়, মামলার ভয় দেখায়।”
অভিযোগকারী গোলাপ মিয়া জানান, “নদীভাঙনে আশ্রয় হারিয়ে শ্বশুরের দখলে থাকা সরকারি জায়গায় বনজঙ্গল পরিষ্কার করে ঘর তুলে বসবাস করছি। অথচ বহু জমির মালিক হয়েও প্রভাবশালীরা খাস জমির বন্দোবস্ত নিয়ে আমাদের উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র করছে। আমরা জেলা প্রশাসনের কাছে এসব অবৈধ বন্দোবস্ত বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।”
অন্যদিকে অভিযুক্ত নুরুল আমিনের ছেলে দেলোয়ার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বাবা যখন প্রকৃত ভূমিহীন ছিলেন, তখন তিনি বন্দোবস্ত পেয়েছেন। গোলাপ মিয়ারা উল্টো আমার বাড়িতে হামলা করেছে ও চাঁদা দাবি করেছে। আমি এ নিয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছি।”
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াছ মিয়া বলেন, “জামালগঞ্জে খাস জমি নিয়ে একাধিক অভিযোগ পেয়েছি। ইতোমধ্যে বেশ কিছু অবৈধ বন্দোবস্ত বাতিল করা হয়েছে। কারা এসব জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।”








