Home রাজনীতি সোহরাওয়ার্দীতে জামায়াতের মহাসমাবেশ

সোহরাওয়ার্দীতে জামায়াতের মহাসমাবেশ

120
0
blank

যমুনা সংবাদ ডেস্ক

রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি আজ শনিবার (১৯ জুলাই) রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তাদের প্রথম একক ‘জাতীয় সমাবেশ’ আয়োজন করেছে। দুপুর ২টায় আনুষ্ঠানিকভাবে সমাবেশ শুরু হলেও শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই নেতাকর্মীরা উদ্যানে জড়ো হতে শুরু করেন। শনিবার সকাল থেকেই ঢাকায় দলে দলে আসছেন দলীয় সমর্থকরা। আয়োজকরা জানিয়েছেন, আজকের সমাবেশে স্মরণকালের সর্ববৃহৎ জনসমাগম ঘটবে।

জামায়াতের শীর্ষ নেতারা বলছেন, এই সমাবেশ শুধু একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নয়, এটি তাদের সাংগঠনিক শক্তি, গণসম্পৃক্ততা এবং রাজনৈতিক বার্তা প্রেরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তারা বলছেন, দলীয় ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নিজেদের নামে এই সমাবেশের আয়োজন এক ধরনের ‘রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন’। লক্ষ্য: অন্তত ১৫ লাখ মানুষের অংশগ্রহণ।

সমাবেশের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সাত দফা দাবি, যার মধ্যে রয়েছে:

* পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতিতে নির্বাচন

* গণহত্যার বিচার ও জাতীয় পুনর্গঠন

* চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনায় জনগণের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা

দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান সমাবেশে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা দেবেন। তিনি নতুন প্রজন্মকে উদ্দেশ্য করে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ নিয়ে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরবেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন শহীদ পরিবারের প্রতিনিধি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, কর্মপরিষদের নেতা এবং ভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও উপস্থিত থাকবেন।

সমাবেশকে সফল করতে নির্মাণ করা হয়েছে ১০০ ফুট দীর্ঘ ও ৩৬ ফুট প্রশস্ত একটি আধুনিক মঞ্চ। এতে এলইডি মনিটর, অতিথিদের জন্য বসার সুব্যবস্থা, চিকিৎসা সহায়তা কেন্দ্র, নামাজের স্থান, পর্যাপ্ত ছাউনি ও টয়লেটসহ সবধরনের সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে।

ঢাকা মহানগরী ও আশপাশের জেলা—গাজীপুর, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জসহ দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কর্মী-সমর্থকদের আনতে প্রায় ১০ হাজার বাস, কয়েক জোড়া ট্রেন ও নৌযান রিজার্ভ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে দক্ষিণাঞ্চল থেকে অসংখ্য মানুষ লঞ্চে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

জামায়াতের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে। যানবাহন পার্কিং, জনসাধারণের নিরাপত্তা, ওজু-নামাজ, মেডিকেল বুথ ও জরুরি সেবার নিশ্চয়তার বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে।

বিশেষ দৃষ্টিনন্দন তোরণ, বিশাল ব্যানার ও ফেস্টুনে ঢাকা শহর ইতোমধ্যে ঢেকে গেছে। এছাড়া ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি ও ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে সমাবেশে উপস্থিত হওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যে পরিবর্তনের সূচনা হয়, তার ধারাবাহিকতায় জামায়াত এই ‘জাতীয় সমাবেশ’কে নিজেদের সংগঠনিক প্রত্যাবর্তনের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করছে। অতীতে পল্টন, বায়তুল মোকাররম এলাকায় জামায়াতের বহু কর্মসূচি থাকলেও সোহরাওয়ার্দীতে এত বড় একক আয়োজন এই প্রথম।

দলটির নেতারা বলছেন, এই সমাবেশ একদিকে রাজনীতিতে জামায়াতের সক্রিয় ও গণভিত্তিক ভূমিকার প্রমাণ, অন্যদিকে আগামী সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দাবির ওপর জোরালো অবস্থান উপস্থাপনের একটি রণকৌশল।