Home দেশ সংবাদ গাছ লাগান, তাপমাত্রা কমান

গাছ লাগান, তাপমাত্রা কমান

129
0
blank

হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি :

জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রেক্ষাপটে যখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ পরিবেশ রক্ষায় সংগ্রাম করছে, তখন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার গড়বিশুদিয়া গ্রামে গড়ে উঠছে এক অভিনব পরিবেশ আন্দোলন। স্থানীয় যুব সংগঠন আত-তাওয়াক্কুল ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে গ্রামবাসীরা একত্রিত হয়ে শুক্রবার (১৮ জুলাই) বিকেলে রোপণ করেছেন শতাধিক নিমগাছ।

ডিপটিউবওয়েলের মোড় থেকে কোনা মেছেড়া পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশ জুড়ে ওষধিগুণ সম্পন্ন পরিবেশবান্ধব এসব নিমগাছ রোপণে অংশগ্রহণ করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফরিদ-আল-সোহানসহ শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা।

সহকারী কমিশনার বলেন,

“নিমগাছ শুধু একটি গাছ নয়, এটি প্রকৃতির এক অবিশ্বাস্য আশীর্বাদ। বাতাসে থাকা ক্ষতিকর ধুলিকণা, ভারী ধাতু, সালফার অক্সাইড ও কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে এটি পরিবেশকে শীতল ও বিশুদ্ধ করে তোলে। শহর কিংবা গ্রামে বাড়ির চারপাশে পরিকল্পিতভাবে নিমগাছ রোপণ করলে তা ‘সবুজ বেষ্টনী’ বা মাইক্রোক্লাইমেট তৈরি করে, যা আশপাশের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনে।”

এই সময় উপযুক্ত বলেই জানান তিনি—বর্ষাকালই বৃক্ষরোপণের সেরা সময়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রকৌশলী ইয়াসির আরাফাত বলেন,

“একটি পূর্ণবয়স্ক নিমগাছ ১০টি এসি চালানোর সমান কাজ করতে পারে। এটি শুধু ছায়া দেয় না, বরং আশপাশের তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি পর্যন্ত কমাতে সক্ষম। এমন গাছ প্রতিটি বাড়ির পাশে লাগানো উচিত।”

নিমগাছের বহুমুখী উপকারিতা যেমন—দূষণ নিয়ন্ত্রণ, ছায়া প্রদান, ঔষধি গুণ ও মশা-পোকামাকড় প্রতিরোধের ক্ষমতা—গ্রামবাসীদের উৎসাহিত করেছে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিতে।

আত-তাওয়াক্কুল ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, পরিবেশ রক্ষায় তারা এ ধরনের বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম বিভিন্ন ইউনিয়নে নিয়মিত চালিয়ে যাবে।

পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে, একটি গাছ একদিকে যেমন কার্বন শোষণ করে, তেমনি বৃষ্টিপাত বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখে। আর নিমগাছের ক্ষেত্রে এর উপকারিতা কয়েকগুণ বেশি।

যেখানে সরকার ব্যস্ত বড় প্রকল্পে, সেখানেই গ্রামে গড়ে উঠছে নিঃশব্দ, সবুজ বিপ্লব।