মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বিট পুলিশিং সভায় পুলিশের মঞ্চে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকে বসানো এবং তার বক্তব্য দেওয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের ভূজপুর এলাকায় অনুষ্ঠিত ওই সভায় এ দৃশ্য দেখা গেলে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়।
সভায় শ্রীমঙ্গল থানার এসআই ও আশিদ্রোন বিট অফিসার বাবলু কুমার পালের পাশে বসানো হয় স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফরিদ মিয়াকে। তিনি সভায় প্রকাশ্যে বক্তব্যও দেন। উপস্থিত কয়েকজন ওই সময় ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করলে নেটিজেনদের মাঝে শুরু হয় তীব্র সমালোচনার ঝড়।
অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসেও যদি ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক নেতারা পুলিশের মঞ্চে জায়গা পান, তাহলে বিট পুলিশিংয়ের নিরপেক্ষতা কোথায়?”
নাগরিকদের একাংশ মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা সাধারণ মানুষের আস্থা ও নিরাপত্তা ভাবনায় গভীর সংশয় সৃষ্টি করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফরিদ মিয়া আগে রাজনৈতিক মামলায় গ্রেফতার হয়ে চার মাস কারাভোগ করেন (মামলা নং: ২৪জিআর ২৪৯, তারিখ ২৪ অক্টোবর ২০২৪)। এছাড়া তার ছেলে হৃদয় আহমদ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক কলেজ নেতা হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয় বিএনপি, জামায়াত, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এসআই বাবলু কুমার পালের অপসারণ দাবি করেছেন। তারা বলেন, “ফরিদ মিয়ার মতো বিতর্কিত রাজনৈতিক নেতাকে পুলিশের পাশে বসিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও ন্যায়ের আশ্রয় কোথায় থাকবে?”
তারা আরও জানান, ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরীর গাড়ি ও পথসভায় হামলা চালিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেন ফরিদ। পরে উল্টো তাদের বিরুদ্ধেই দায়ের হয় একাধিক গায়েবি মামলা। গ্রেফতার হন যুবদল নেতা আব্দুল কাদিরসহ আরও কয়েকজন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফরিদ মিয়া অতীতে সালিশি কার্যক্রমে ঘুষ গ্রহণ করে পক্ষপাতদুষ্ট রায় দিয়েছেন, যা নিয়ে বহুবার সমালোচিত হন। অনেকে বলছেন, “তিনি টাকা দিয়ে অন্যায়কে ন্যায় বানাতে সিদ্ধহস্ত। এ ধরনের লোকদের পুলিশের মঞ্চে জায়গা দেওয়াই প্রমাণ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কতটা নিরপেক্ষ!”
বিষয়টি জানতে চাইলে এসআই বাবলু কুমার পাল বলেন, “তিনি যে আওয়ামী লীগ নেতা তা আমার জানা ছিল না। এখন তাকে গ্রেফতার করার জন্য খোঁজা হচ্ছে।”
তবে স্থানীয়রা এই বক্তব্যকে চমকপ্রদ ও নাটকীয় বলেই মনে করছেন। প্রশ্ন উঠেছে, একজন বিট অফিসার কীভাবে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও এলাকার আলোচিত ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে অবগত নন?
এই ঘটনায় শ্রীমঙ্গলসহ পুরো মৌলভীবাজার জেলাজুড়ে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ও আইনের শাসনের প্রশ্নে বিট পুলিশিংয়ের কার্যকারিতা নিয়েই তৈরি হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক।
বিশ্লেষকরা বলছেন, “বিট পুলিশিং একটি কমিউনিটি-বেইজড নিরপেক্ষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মডেল। সেখানে দলীয় প্রভাব ও রাজনৈতিক মুখদের সামনে আনার অর্থই হচ্ছে এই মডেলকে প্রশ্নবিদ্ধ করা।”








