Home দেশ সংবাদ আবদুল মান্নান তালুকদারের দাফন সম্পন্ন, লাখো মানুষের শেষ শ্রদ্ধা

আবদুল মান্নান তালুকদারের দাফন সম্পন্ন, লাখো মানুষের শেষ শ্রদ্ধা

142
0
blank

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

বিএনপির কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা ও সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ-সলঙ্গা) আসনের চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য, বর্ষীয়ান রাজনীতিক আলহাজ্ব আব্দুল মান্নান তালুকদারের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (১৯ জুলাই) বিকেলে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার মালশাপাড়া কবরস্থানে শেষ জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হয়।

মরহুমের জানাজা ও শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাতে এক হৃদয়বিদারক ও ঐকবদ্ধ দৃশ্যের অবতারণা হয়—যেখানে আত্মীয়স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী, ভক্ত-সমর্থক এবং সাধারণ মানুষ একত্রিত হয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান তাঁকে, যিনি ছিলেন তাড়াশ-রায়গঞ্জ-সলঙ্গার গণমানুষের আপনজন।

শুক্রবার বাদ আছর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাঁর মরদেহ নিজ এলাকায় পৌঁছালে শনিবার সকাল থেকে শুরু হয় ধারাবাহিক জানাজা:

* সকাল ১০টায় তাড়াশ ডিগ্রি কলেজ মাঠে

* দুপুর ১২টায় জন্মস্থান সলঙ্গার ধুবিল আয়েশা-ফজলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে

* বাদ জোহর রায়গঞ্জ ধানগড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে

* বাদ আসর সিরাজগঞ্জ সরকারি ইসলামিয়া কলেজ মাঠে পঞ্চম ও শেষ জানাজা

প্রতিটি জানাজায় মানুষের ঢল নামে। ধর্ম-বর্ণ-দলমতের বিভেদ ভুলে সবাই তাকে শ্রদ্ধা জানান।

সিরাজগঞ্জ ইসলামিয়া কলেজ মাঠের জানাজা পূর্ব সমাবেশে তাঁর রাজনৈতিক অবদান ও মানবিক গুণাবলির স্মৃতিচারণ করেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ পুত্র রাহিদ মান্নান লেলিন। সঞ্চালনায় ছিলেন জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ভিপি শামীম খান।

আব্দুল মান্নান তালুকদার ১৯৯১, ১৯৯৬ (ফেব্রুয়ারি ও জুন) এবং ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে চারবার সংসদ সদস্য হন। তিনি স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

পাশাপাশি তিনি সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি, আহ্বায়ক, চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। তাঁর রাজনীতি ছিল উন্নয়ন, আন্তরিকতা ও জনগণের কাছে থাকা—এই তিন মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত।

রায়গঞ্জ-তাড়াশ-সলঙ্গার প্রতিটি জনপদে তাঁর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ছাপ স্পষ্ট। স্কুল-কলেজ স্থাপন, রাস্তাঘাট ও ব্রীজ-কালভার্ট নির্মাণে তিনি বিপ্লবী ভূমিকা রেখেছেন। জনবিচ্ছিন্ন অঞ্চলে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিয়ে মানুষকে তিনি অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে এসেছেন।

আব্দুল মান্নান তালুকদার ছিলেন এমন এক নেতা, যার জনপ্রিয়তা মৃত্যুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত অটুট ছিল। তিনি ছিলেন জনগণের হৃদয়ের স্পর্শে গড়া একজন “আত্মার আত্মীয়”। তাঁর মৃত্যুতে তাড়াশ-রায়গঞ্জ-সলঙ্গা জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। দলমত নির্বিশেষে সবাই আজ বলছে—”একজন বড় মানুষকে হারালাম।”