যশোর প্রতিনিধি:
গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে যশোরে জেলা জামায়াতে ইসলামী এক বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের আয়োজন করে।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) বিকাল ৪টায় যশোর শহরের দড়াটানা ভৈরব চত্বরে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াত আমীর অধ্যাপক গোলাম রসুল।
সমাবেশে বক্তব্যে তিনি বলেন,
“১৬ বছর ধরে পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ দেশে নির্যাতনের স্টিম রোলার চালিয়েছে। দুর্নীতি, লুটপাট, খুন-গুম, ভোট ডাকাতি ও ক্ষমতা দখলের মাধ্যমে একটি ফ্যাসিস্ট শাসন কায়েম করেছিল। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার রক্তাক্ত আন্দোলনে সেই স্বৈরাচারের পতন ঘটে। আজ আমরা যে মুক্তভাবে কথা বলতে পারছি, তা আবু সাঈদের মতো শহিদদের আত্মত্যাগের ফল।”
তিনি বলেন, গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশে হামলা শুধু একটি দলের ওপর হামলা নয়, এটি স্বাধীনতা-গণতন্ত্র-আন্দোলনের ওপর হামলা। জামায়াতে ইসলামী এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছে।
গোলাম রসুল আরও বলেন,
“দেশ এখন একটি নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে। সবার জন্য লেভেল প্লেইং ফিল্ড নিশ্চিত না হলে কোনো নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। মাস্তানদের দৌরাত্ম্য, কালো টাকার প্রভাব বন্ধ না করলে জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।”
তিনি প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (PR) পদ্ধতিতে নির্বাচন ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে বলেন,
“৪০% ভোট পেলেও কেউ যেন সংবিধান পরিবর্তনের ক্ষমতা না পায়। পিআর পদ্ধতিতে ভোটের প্রতি আসন নির্ধারিত হলে সংসদ হবে সর্বদলীয় ও প্রাণবন্ত।”
জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ করে তিনি বলেন,
“তারা আমাদের গর্ব। তারা বুক দিয়ে এদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছে। আমরা তাদের কাছে চিরঋণী।”
তিনি সতর্ক করে বলেন,
“যারা আজ এনসিপিকে কটাক্ষ করছেন, তাদের মনে রাখতে হবে—এই সুযোগে আওয়ামী দোসররা তৃতীয় পক্ষ হয়ে আবারও দেশে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। কোনো রাজনৈতিক দল যেন স্বৈরাচার ফেরত আনতে সহায়তা না করে।”
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন—
জেলা জামায়াত সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিকী,
সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা বিলাল হুসাইন,
অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম,
অফিস সেক্রেটারি নুর-ই-আলা নূর মামুন,
মিডিয়া সেক্রেটারি অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন বিশ্বাস,
শহর নায়েবে আমির মাওলানা ইসমাইল হোসেন,
ছাত্রশিবির সভাপতি আহম্মেদ ইব্রাহিম শামীম প্রমুখ।
সঞ্চালনায় ছিলেন জেলা জামায়াত কর্ম পরিষদ সদস্য আবুল হাশিম রেজা।
সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে মণিহার সিনেমা হল চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।








