Home বাংলাদেশ বাংলাদেশে স্টারলিংকের সাফল্যে স্পেসএক্স মুগ্ধ

বাংলাদেশে স্টারলিংকের সাফল্যে স্পেসএক্স মুগ্ধ

109
0
blank

যমুনা সংবাদ ডেস্ক:

বাংলাদেশে স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবার সফল বাস্তবায়ন ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ নিয়ে আজ এক ঐতিহাসিক বৈঠকে মিলিত হন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও স্পেসএক্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট লরেন ড্রেয়ার। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও দুর্নীতিমুক্ত ডিজিটাল সেবার দৃষ্টান্তমূলক প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন ড্রেয়ার।

লরেন ড্রেয়ার বলেন, “আমরা পৃথিবীর ১৫০টিরও বেশি দেশে কাজ করি, কিন্তু বাংলাদেশে যেভাবে সমন্বিতভাবে এবং দ্রুততার সঙ্গে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়েছে, তা অভূতপূর্ব। এটি অধ্যাপক ইউনূসের দূরদর্শী নেতৃত্ব ও সরকারের কার্যকর অংশীদারিত্বের ফল।” তিনি আরও বলেন, “আমরা আপনার দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য মুখিয়ে আছি।”

অধ্যাপক ইউনূস বৈঠকে বলেন, “আমাদের পার্বত্য ও দুর্গম অঞ্চলে উন্নত কানেক্টিভিটি একান্ত প্রয়োজন। এসব জায়গায় ভালো শিক্ষক বা চিকিৎসকের অভাব আছে। আমরা ১০০টি স্কুলে অনলাইন শিক্ষা চালুর লক্ষ্যে কাজ করছি, যাতে বিচ্ছিন্ন অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা নতুন আলোর মুখ দেখতে পারে।”

তিনি জানান, ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা হচ্ছে আরেকটি বড় অগ্রাধিকার, যা গর্ভবতী নারী ও প্রবাসীদের জন্যও জীবনঘনিষ্ঠ সমাধান দেবে। “প্রবাসীরা বিদেশে থেকেও দেশের ডাক্তারদের সঙ্গে পরামর্শ করতে পারবেন, যা ভাষাগত ও মানসিক জটিলতা কমাবে,” বলেন ইউনূস।

ড্রেয়ার বলেন, “আমি অনেক দেশ ঘুরেছি, দুর্নীতি কীভাবে সেবা থেকে মানুষকে বঞ্চিত করে তা জানি। অধ্যাপক ইউনূস দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে অবস্থান নিয়েছেন এবং প্রযুক্তিকে সুশাসনের হাতিয়ার করেছেন, তা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা।”

তিনি আরও বলেন, “আপনার আইডিয়াগুলো আমরা আন্তর্জাতিক নেতাদের সামনে তুলে ধরব। আপনি যদি নিজের দেশে এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারেন, তাহলে অন্যরাও পারবে।”

এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার আইসিটি-বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব, বিডা ও বেজার চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং স্পেসএক্সের গ্লোবাল এনগেজমেন্ট কনসালট্যান্ট রিচার্ড গ্রিফিথস।

স্টারলিংক চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশ এখন প্রযুক্তিগতভাবে নতুন এক সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। শুধু ইন্টারনেটই নয়, বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দুর্নীতিবিরোধী প্রশাসন— সবক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পথ দেখাচ্ছে এই কানেক্টিভিটি। অধ্যাপক ইউনূসের দূরদর্শী নেতৃত্বে বৈশ্বিক প্রযুক্তিকে দেশের উন্নয়নের সেবায় পরিণত করার এই উদ্যোগ হতে পারে অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের জন্য অনুকরণীয় মডেল।