আন্তর্জাতিক ডেস্ক || যমুনা সংবাদ
১৮ জুলাই ২০২৫
বহু আলোচিত এবং বিতর্কিত এক অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে, ফ্রান্স আনুষ্ঠানিকভাবে সেনেগাল থেকে তাদের সেনা সদস্যদের প্রত্যাহার করেছে। এর মাধ্যমে ৬৫ বছরের স্থায়ী সামরিক উপস্থিতির ইতি ঘটল বলে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা BRICS News নিশ্চিত করেছে।
সেনেগালের রাজধানী ডাকারে অবস্থিত ফ্রেঞ্চ সেনা ঘাঁটিটি ছিল আফ্রিকার পশ্চিমাঞ্চলে ফ্রান্সের অন্যতম কৌশলগত সামরিক অবস্থান। ১৯৬০ সালে সেনেগাল স্বাধীনতা লাভের পরেও ফ্রান্স তাদের সেনা ঘাঁটি চালু রাখে। অনেকের মতে, এটি ছিল “নব্য উপনিবেশবাদের” প্রতীক, যা আফ্রিকার সার্বভৌমত্বের উপর ছায়া ফেলেছিল।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফ্রান্স-বিরোধী বিক্ষোভ ও আফ্রিকাজুড়ে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির দাবিতে বাড়তে থাকা জনরোষের কারণে ফরাসি সেনা প্রত্যাহারের দাবি তীব্রতর হয়। মালি, বুরকিনা ফাসো, নাইজার এবং এখন সেনেগাল — একের পর এক দেশ ফ্রান্সের সামরিক উপস্থিতিকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।
সেনেগালের জনগণ ও তরুণ প্রজন্ম ফ্রান্সের সামরিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত হওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেনা প্রত্যাহার কেবল সামরিক ইস্যু নয়, বরং এটি আফ্রিকায় চলমান ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতিফলন।
ফরাসি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সেনেগাল সরকারের অনুরোধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এটি দুই দেশের “বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায়” রাখার অংশ। তবে কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি মূলত পশ্চিম আফ্রিকায় ফ্রান্সের ক্রমহ্রাসমান প্রভাবের বহিঃপ্রকাশ।
সেনেগাল এখন তাদের ভূখণ্ডে বিদেশি সামরিক ঘাঁটি ছাড়াই নিরাপত্তা রক্ষার পথে হাঁটছে। এতে আফ্রিকান ইউনিয়নের নিজস্ব প্রতিরক্ষা কাঠামো তৈরির সম্ভাবনা বাড়ছে। পাশাপাশি চীন, রাশিয়া এবং তুরস্কের মতো শক্তিগুলোর সঙ্গে সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
ফ্রান্সের সেনা প্রত্যাহার শুধু সেনেগালের জন্যই নয়, বরং সমগ্র আফ্রিকার জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এটি আফ্রিকার নবজাগরণের একটি স্পষ্ট বার্তা—স্বাধীনতা শুধু কাগজে নয়, বাস্তব নীতিতে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।








