Home দেশ সংবাদ নীলফামারীতে ৮ ঘর পুড়ে ছাই, নিঃস্ব এক পরিবার

নীলফামারীতে ৮ ঘর পুড়ে ছাই, নিঃস্ব এক পরিবার

144
0
blank

নীলফামারি প্রতিনিধি:

নীলফামারী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আরাজি কানিয়াল খাতা এলাকায় টিনশেড বসতবাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মুহূর্তেই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এক পরিবারের আটটি ঘর। বুধবার (১৬ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে রান্নাঘরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের মাধ্যমে এ আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সূত্রে জানা যায়, মৃত মজির উদ্দিন সরকারের চার ছেলে—মোঃ সুমন, আবু বক্কর সিদ্দিক, শাহিনুর রহমান ও নুর আলম—একই আঙিনায় টিনশেড ঘরে বসবাস করতেন। হঠাৎ বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা দৌড়ে এসে দেখতে পান আগুন লেলিহান শিখায় পুরো বাড়ি গ্রাস করে ফেলেছে। আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে, আটটি ঘর মুহূর্তেই ভস্মীভূত হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী সাগর ইসলাম বলেন, “আচমকা বিকট শব্দ শুনে ছুটে এসে দেখি আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। আমরা হোস পাইপ, বালতির পানি দিয়ে চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু কিছুতেই আগুন থামানো যায়নি।”

অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ও প্রতিবেশী এটিকে দুঃখজনক ঘটনা আখ্যা দিয়ে বলেন, “এই পরিবারের সবকিছু আগুনে পুড়ে গেছে। তাদের এখন মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও রইল না।” প্রতিবেশী আব্দুস সামাদ বলেন, “এই পরিবারটি সর্বস্ব হারিয়েছে। আমাদের সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত।”

ঘটনার খবর পেয়ে নীলফামারী ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিস টিমের ইনচার্জ মিয়া রাজ উদ্দিনের নেতৃত্বে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও ততক্ষণে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা, অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। স্থানীয়দের পাশাপাশি বিভিন্ন মহল থেকে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে কোনো সরকারি সহায়তা পৌঁছেছে কিনা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।