আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে, যেখানে তিনি ব্রিকস জোটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই ধরনের হুমকিতে রাশিয়া কিংবা ব্রিকস উদ্বিগ্ন নয়।
মঙ্গলবার মস্কোয় এক সাংবাদিক সম্মেলনে ল্যাভরভ বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা চাপ ও হুমকি কূটনৈতিক নয় বরং রাজনৈতিক প্রপাগান্ডার অংশ। আমরা এই ধরনের বাগাড়ম্বরের চেয়ে বাস্তব সহযোগিতা ও আঞ্চলিক ভারসাম্যের উপর বিশ্বাস করি।”
ব্রিকস: বিশ্ব রাজনীতিতে পাল্টে দেওয়া শক্তি ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার সমন্বয়ে গঠিত ব্রিকস জোট সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে একটি বিকল্প বলয় গড়ে তুলছে। সম্প্রতি সৌদি আরব, ইরান, ইথিওপিয়া, মিশর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও এই জোটে যোগ দিয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা বলয়ের জন্য একটি কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের শাসনামলে বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ বাড়ানো ও একতরফা নিষেধাজ্ঞা চাপানোর প্রবণতা জোটগুলোর মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “ব্রিকস যদি মার্কিন স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তবে তার পরিণতি হবে।” প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একাধিকবার ব্রিকসকে “চীন ও রাশিয়ার আধিপত্য বিস্তারের হাতিয়ার” বলে আখ্যায়িত করেছেন।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৫ সালের বিশ্ব রাজনীতি এক বহুমাত্রিক বিভাজনের দিকে এগোচ্ছে। পশ্চিমা বিশ্ব এবং ব্রিকসের মধ্যে বাণিজ্য, মুদ্রা, নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের বক্তব্য কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখছেন অনেকে।
ল্যাভরভের বক্তব্য স্পষ্ট— রাশিয়া সহ ব্রিকস সদস্যরা নিজেদের লক্ষ্য ও কৌশলে স্থির। যুক্তরাষ্ট্র হুমকি দিলেও ব্রিকস তার পথ থেকে সরে আসবে না। তিনি আরও বলেন, “বিশ্বকে একক কর্তৃত্বে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা সফল হবে না। নতুন বিশ্ব ব্যবস্থা বহুপাক্ষিক, সমতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে গঠিত হবে।”
ট্রাম্পের হুমকি এবং রাশিয়ার জবাব বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় একটি নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগামী দিনে এই দ্বন্দ্ব কীভাবে বিশ্ব রাজনীতিকে প্রভাবিত করবে, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে গোটা দুনিয়া।








