স্টাফ রিপোর্টার:
ঢাকা, ১১ জুলাই ২০২৫, রাত
ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় চাঁদা না দেওয়ায় প্রকাশ্য দিবালোকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সোহাগকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
বিদেশে অবস্থানকালে ঘটনার খবর পেয়ে গভীর মর্মাহত এই রাজনৈতিক নেতা নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক ভেরিফায়েড আইডিতে এক আবেগঘন ও প্রতিবাদী বার্তা পোস্ট করেন। তিনি লিখেছেন:
“মিটফোর্ডের ঘটনা বিদেশে অবস্থানরত থাকা অবস্থায় জেনে সকল ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। এ কোন যুগ! কোন সমাজ! প্রকাশ্য দিবালোকে একজন ক্ষুদ্র, সাধারণ ব্যবসায়ীকে শুধু চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে শত শত মানুষের সামনে কতটা নির্মমভাবে হত্যা করা হলো!”
সোহাগের পরিবারের প্রতি গভীর সহমর্মিতা জানিয়ে তিনি লেখেন—
“হে ক্ষতিগ্রস্ত মজলুম পরিবার, আমরা তোমাদের কাছে লজ্জিত। হে ব্যবসায়ী ভাই সোহাগ, তোমার এই পরিণতি হওয়ার আগে সত্যিকারের কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলাম না — এজন্য আমরা আন্তরিকভাবে লজ্জিত।”
তিনি দেশের মানুষকে ভয় ও সংকোচ উপেক্ষা করে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন—
“হে সমাজ, জেগে উঠো! মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার প্রমাণ দাও। মনে রেখো — আজ তুমি কারো বিপদে চুপ থাকলে, আগামীকাল তোমার ওপর এর চেয়েও বড় বিপদ এলে, তখন তুমি কাউকে পাশে পাবে না। অতএব, আমাদেরকে সমস্ত অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতেই হবে।”
ঘটনাটি ঘটে গত ৯ জুলাই বিকেলে, পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায়। স্থানীয় একাধিক চিহ্নিত সন্ত্রাসী ব্যবসায়ী সোহাগের কাছে চাঁদা দাবি করলে তিনি তাতে রাজি না হন। এরপর তাকে প্রকাশ্যে শত শত মানুষের সামনে বেধড়ক মারধর করা হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা জনমনে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। মানবাধিকার সংস্থাগুলো অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
জামায়াত আমীরের এই বার্তা শুধু একটি রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া নয়, বরং একটি সামাজিক চেতনা জাগানিয়া আহ্বান হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ঘটনাগুলোর বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ও দৃঢ় সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে না তুললে, সমাজে বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
মিটফোর্ডের ঘটনাটি আমাদের সমাজের সামগ্রিক অবক্ষয় ও নিরাপত্তাহীনতার নগ্ন চিত্র তুলে ধরেছে। এটি শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়, বরং রাষ্ট্র ও সমাজের নীরবতার প্রতি এক নির্মম প্রশ্নবাণ। এ প্রশ্নের জবাব দিতে না পারলে আগামীকাল হয়তো আমরা কেউই নিরাপদ থাকবো না।








