নীলফামারী প্রতিনিধি:
অর্থনৈতিক সংকটে নিপতিত নীলফামারীর প্রান্তিক সংস্কৃতিসেবীদের জন্য সাহস ও সম্মানের বার্তা নিয়ে এলো জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির যুগ্ম উদ্যোগ। আজ মঙ্গলবার (৮ জুলাই ২০২৫) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক হৃদয়গ্রাহী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলার ৩৫ জন অস্বচ্ছল সংস্কৃতিসেবীর হাতে মাসিক কল্যাণ ভাতার চেক তুলে দেওয়া হয়।
সংগীত, আবৃত্তি, নাটক, বাউল, পালাগান ও লোকনাট্যের সঙ্গে জড়িত এই শিল্পীরা দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। রাষ্ট্রের এমন সহানুভূতিশীল সহায়তা তাঁদের জন্য যেমন আর্থিক স্বস্তি, তেমনি মনোবল জোগানোর এক অনন্য প্রেরণা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন,
“সংস্কৃতিসেবীরা সমাজের আত্মিক ও মানবিক বিকাশে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে চলেছেন। তাঁদের অবদান অর্থমূল্যে পরিমাপযোগ্য নয়। এই কল্যাণ ভাতা তাঁদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা ও দায়িত্ববোধেরই প্রতিফলন।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা কালচারাল অফিসার। তিনি বলেন,
“এই ভাতা যেন প্রকৃত, সক্রিয় ও অস্বচ্ছল শিল্পীদের কাছে পৌঁছে—সে বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছি। আগামীতে আরও শিল্পীকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও জেলার বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা। এছাড়া সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে চেক বিতরণকালে দেখা যায়, অনেক প্রবীণ শিল্পীর চোখে জল। কেউ দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেয়ে আপ্লুত, কেউবা আনন্দে বিহ্বল।
লোকসংগীতশিল্পী রহিমা খাতুন বলেন,
“এই ভাতা শুধু অর্থ নয়, এটা আমাদের প্রতি রাষ্ট্রের ভালোবাসা ও স্বীকৃতি। এতে আমাদের আত্মসম্মান ফিরে এসেছে।”
নীলফামারী জেলার সদর, জলঢাকা, ডিমলা, কিশোরীগঞ্জ ও সৈয়দপুর উপজেলার ৩৫ জন সংস্কৃতিসেবী এই মাসিক কল্যাণ ভাতা পেয়েছেন। প্রতিজনকে ২ হাজার টাকা করে ভাতা প্রদান করা হয়। ভাতাভোগীদের মধ্যে রয়েছেন নারী ও পুরুষ উভয়েই, যারা দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক সাংস্কৃতিক চর্চায় সক্রিয় রয়েছেন।
বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এ মাসিক কল্যাণ ভাতা প্রকল্পটি দেশের আর্থিকভাবে অক্ষম, প্রান্তিক ও অবহেলিত সংস্কৃতিসেবীদের জন্য একটি জীবনরক্ষাকারী উদ্যোগ। এই ভাতার মাধ্যমে একজন শিল্পী যেমন ন্যূনতম জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন, তেমনি তাঁর সৃষ্টিশীল পথচলাও ব্যাহত হয় না।
সমাজে সংস্কৃতির শক্তিকে জীবিত রাখার জন্য এই ধরনের রাষ্ট্রীয় সহায়তা শুধু প্রয়োজনীয়ই নয়, বরং সময়োপযোগী ও মানবিক দায়বদ্ধতার বাস্তব প্রতিফলন।
রাষ্ট্রের এমন উদ্যোগ যেন একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে—যেখানে শিল্প-সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত মানুষদের অবহেলা নয়, স্বীকৃতি ও সহানুভূতির আলোয় আলোকিত করা হয়। ভবিষ্যতে আরও বেশি সংখ্যক শিল্পী এ সহায়তার আওতায় আসবেন—এটাই সকলের প্রত্যাশা।








