Home দেশ সংবাদ বন্দরে জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত পণ্য খালাস, চরম দুর্ভোগে শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা

বন্দরে জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত পণ্য খালাস, চরম দুর্ভোগে শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা

188
0
blank

বেনাপোল প্রতিনিধি:

অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। সামান্য বৃষ্টিতেই বন্দরের বিভিন্ন এলাকা হাঁটুপানি ডুবে থাকায় মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে পণ্য খালাস প্রক্রিয়া। এতে প্রতিদিন ক্ষতির মুখে পড়ছেন আমদানিকারক ও পরিবহন মালিকরা। চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শ্রমিক, চালক এবং নিরাপত্তাকর্মীদেরও।

জানা যায়, বর্তমানে বেনাপোল বন্দরে কয়েকটি পণ্য খালাস গেট বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। রাস্তা থেকে নিচু হওয়ায় বৃষ্টির পানি সহজেই ঢুকে পড়ছে শেড ও ইয়ার্ডে। ফলে ভিজে নষ্ট হচ্ছে কোটি কোটি টাকার পণ্য। একদিকে শ্রমিকদের চর্মরোগসহ নানা শারীরিক জটিলতা বাড়ছে, অন্যদিকে পণ্য পরিবহনে স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে।

বন্দর ব্যবহারকারীরা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরেই এ দুর্ভোগ চললেও কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই। বন্দর ও রেল কর্তৃপক্ষ একে অপরকে দায়ী করলেও সমাধান নেই চোখে পড়ার মতো। বন্দরে থাকা কেমিক্যাল মিশ্রিত পানি পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

শ্রমিক নেতা মাকসুদুর রহমান রিন্টু জানান, প্রতিদিন পানির মধ্যে কাজ করতে গিয়ে চুলকানিসহ নানা রোগে ভুগছেন শ্রমিকরা। বন্দরের শেডগুলো নিচু হওয়ায় স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন সম্ভব হচ্ছে না, এতে পণ্যের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি আতিকুজ্জামান সনি বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে ট্রাক চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে, গেট বন্ধ থাকায় সময়মতো পণ্য খালাস সম্ভব হচ্ছে না।

বেনাপোল ব্যবসায়ী বকুল মাহবুব বলেন, প্রতিবছর বন্দরের ভাড়া বাড়লেও উন্নয়ন নেই। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবে অবকাঠামোগুলো বৃষ্টির পানিতে ডুবে যাচ্ছে।

আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল হক আনু বলেন, সরকার বেনাপোল বন্দর থেকে বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে। অথচ বছরের পর বছর জলাবদ্ধতায় ভোগছে এই বন্দরের পণ্য খালাস ব্যবস্থা। সরকারের নিকট কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে বেনাপোল বন্দর পরিচালক মো. শামিম হোসেন বলেন, রেল বিভাগের নির্মাণ কাজে কালভার্ট না রাখায় জলাবদ্ধতা বেড়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য হাওড়ের সঙ্গে ড্রেন সংযোগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দেশের প্রধানতম এই স্থলবন্দর যদি উন্নত পরিকল্পনায় রূপান্তর না করা হয়, তবে সামগ্রিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসবে। সময়োপযোগী পদক্ষেপ ও সমন্বিত উদ্যোগই হতে পারে এই সংকট উত্তরণের একমাত্র পথ।