পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের ফকিরেরহাট এলাকায় ভুট্টাক্ষেতে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও একজন।
বুধবার (৪ জুন) সকাল ৯টার দিকে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতরা হলেন—বেংহাড়ি পাড়া গ্রামের সপিজুল ইসলামের ছেলে কলেজছাত্র জামিদুল ইসলাম (১৮), লিয়াকত আলীর ছেলে ভ্যানচালক শাহিন (৪০) এবং শফিউল ইসলামের ছেলে কৃষিশ্রমিক রব্বানি (৩০)। গুরুতর আহত জয় (২২) নামে অপর একজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে একই গ্রামের রবিউল ইসলামের ভুট্টাক্ষেতে ১১ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। তাদের মধ্যে ৪ জন একটি দলে বিভক্ত হয়ে মাঠের একপাশে কাজ করছিলেন। হঠাৎ তারা মাটিতে পড়ে থাকা একটি ছেঁড়া বৈদ্যুতিক তারে অসাবধানতাবশত পা দিলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান কলেজছাত্র জামিদুল। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাকিদের উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক শাহিন ও রব্বানিকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ওই এলাকায় পল্লী বিদ্যুৎ ও পিডিবির পুরাতন পরিত্যক্ত লাইন একত্রে ঝুলে ছিল। বারবার অভিযোগ জানালেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা জালাল উদ্দিন বলেন, “বহুবার বিদ্যুৎ অফিসকে জানিয়েছি—এই লাইন বিপজ্জনক। কেউ কর্ণপাত করেনি। আজ তিনজনের মৃত্যু সেই অবহেলারই পরিণতি।”
নিহত জামিদুলের বড় ভাই জয়, যিনি নিজেও দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন, জানান, “ঘটনার সময় বিদ্যুৎ ছিল না। কিন্তু ঝড়ের পর সকাল ৯টার দিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হলে পরিত্যক্ত তারটি বিদ্যুতায়িত হয়ে যায়। মুহূর্তেই দুর্ঘটনাটি ঘটে।”
এদিকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. আবুল কাশেম বলেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে তিনজনের মধ্যে দুজন হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা যান। একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।”
ঘটনার বিষয়ে পঞ্চগড় সদর থানার ওসি আবদুল্লাহ হিল জামান বলেন, “তিনজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই দুর্ঘটনায় আবারও সামনে এলো পল্লী বিদ্যুৎ ও পিডিবির সমন্বয়হীনতা, রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি এবং জনসচেতনতার অভাব। বারবার অভিযোগ সত্ত্বেও ব্যবস্থা না নেওয়ায় মৃত্যুর দায় এড়ানো কঠিন—এমন মত স্থানীয়দের।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।








