Home বাংলাদেশ নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা ঈদের খুশিতে গ্রামে ছুটছে মানুষ

নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা ঈদের খুশিতে গ্রামে ছুটছে মানুষ

350
0
blank

স্টাফ রিপোর্টার :

ঈদ মানেই ফিরে যাওয়ার আনন্দ, আপন ঠিকানায় ফেরার উৎসব। আর কুরবানির ঈদ মানেই ত্যাগের মহিমায় হৃদয় আলোকিত করা। ঈদুল আযহাকে ঘিরে এই দুই অনুভব মিশে গেছে এক অন্তর্গত আনন্দে—যেখানে নাড়ির টানে মানুষ ছুটে চলে শেকড়ের টানে, প্রিয়জনের কাছে।

ঢাকার গাবতলী, সায়েদাবাদ, মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে শুরু করে কমলাপুর রেলস্টেশন কিংবা সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল—সবখানে এখন শুধু একটি দৃশ্য: বাড়ি ফেরার ভিড়। কেউ যাচ্ছে একা, কেউ পরিবারসহ। কারো কোলে শিশু, কারো হাতে কোরবানির জন্য কেনা নতুন জামা, কেউ আবার বুকভরা স্মৃতি নিয়ে ফিরছে গ্রামের উঠোনে।

এক কর্মজীবী নারী যাত্রার আগে বলছিলেন,

“আজ সপরিবারে নিজ জন্মস্থান বাড়ি যাচ্ছি। মা, বাবা, ভাই, বোন সবার সঙ্গে কুরবানির ঈদ করতে। এই ধুলোমাখা শহর ঢাকাকে ছেড়ে যাচ্ছি একান্তই নাড়ির টানে। বুকভরে আনন্দ আর চোখের কোনে হালকা জল নিয়ে বিদায় নিচ্ছি এই শহরের কাছ থেকে, যেটি আমার জীবনের বড় অংশ। সবাই দোয়া করবেন, যেন সুস্থভাবে ফিরে আসতে পারি এই প্রিয় শহরে।”

কুরবানির ঈদ শুধু উৎসব নয়—এটি আত্মার পরিশুদ্ধি, ত্যাগের প্রতীক। এই দিনটি আমাদের শেখায় আত্মবিসর্জন, অন্যের জন্য ভালোবাসা এবং মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি নিঃস্বার্থ আনুগত্য। পশু কুরবানির সঙ্গে সঙ্গে এই ঈদে মানুষ তার অহং, লোভ, ক্রোধ ও নিজস্বতাকেও কুরবানি দেয় হৃদয়ের গভীরে।

প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষ এখন অপেক্ষায় প্রিয়জনের ফিরে আসার। বাড়ির উঠোনে জমছে কোরবানির প্রস্তুতি, মসজিদে হচ্ছে ঈদের জামাতের আয়োজন। আর শিশুদের চোখে-মুখে খুশির ঝিলিক—নতুন জামা, খেলার সঙ্গী আর কোরবানির পশু নিয়ে উচ্ছ্বাস।

যাত্রা পথের কষ্ট, টিকিট সংকট, যানজট—সব যেন ঢাকা পড়ে গেছে এই ঈদের পবিত্র আনন্দে।

তবে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঈদের ছুটিতে যেন কেউ দুর্ঘটনার শিকার না হন, সেই প্রার্থনা করছেন সবাই।

এই ফিরে যাওয়া শুধু প্রিয়জনদের কাছে নয়, এটি হৃদয়ের কাছে ফিরে আসা। ঈদুল আযহা যেন আমাদের শিখিয়ে দেয়—সত্যিকারের আনন্দ আসে ত্যাগে, শেয়ার করার মধ্য দিয়ে, ভালোবাসার বিনিময়ে।

সবাইকে কুরবানির ঈদের আন্তরিক শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক!