আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সম্পর্কে কঠোর মন্তব্য করে বলেছেন, “তিনি অত্যন্ত কঠিন এবং তার সঙ্গে কোনো চুক্তি করা প্রায় অসম্ভব।” BRICSNews-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের এই মন্তব্য বিশ্ব অর্থনীতি ও কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার বাণিজ্যিক ও ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন আবারও চরমে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রকাশ্য এ মন্তব্য শুধু কূটনৈতিক সম্পর্কেই নয়, বৈশ্বিক বাজারেও কম্পন তুলতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, “চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং খুবই কঠিন একজন মানুষ। তার সঙ্গে বোঝাপড়া করা অত্যন্ত কঠিন, এবং কোনো চুক্তি করা প্রায় অসম্ভব।”
এই বক্তব্যে তিনি চীনকে এক প্রকার ‘অসহযোগী কৌশলগত প্রতিপক্ষ’ হিসেবেই উপস্থাপন করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, দক্ষিণ চীন সাগর এবং তাইওয়ান ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। ট্রাম্প ২০২৪ সালে পুনরায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর কিছু পর্যবেক্ষক আশা করেছিলেন—তার আগের প্রশাসনের মতোই কড়া অবস্থান থেকে কিছুটা নরম অবস্থানে ফিরতে পারেন। তবে সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলো সে ধারণাকে ভুল প্রমাণ করছে।
বিশ্ব কূটনীতিকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই বক্তব্য আসন্ন জি-২০ সম্মেলন বা ব্রিকস-প্লাস আলোচনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। চীন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ বক্তব্যের জবাব না দিলেও বেইজিং থেকে ‘চাপ প্রয়োগের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের’ বার্তা এসেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই মন্তব্য একদিকে চীনকে চাপে রাখার কৌশল, অন্যদিকে মার্কিন জনগণের কাছে নিজের ‘দৃঢ় নেতৃত্বের’ ভাবমূর্তি তুলে ধরার প্রচেষ্টা।
তবে এটাও বলা হচ্ছে, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি নির্ভর বর্তমান বিশ্বে চীনের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক না রাখার ঝুঁকি যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও বিপজ্জনক হতে পারে।
চীনা নেতৃত্বের প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রকাশ্য অসন্তুষ্টি বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, এই মন্তব্যের পর চীন কেমন প্রতিক্রিয়া জানায় এবং পরবর্তী বিশ্ব কূটনৈতিক সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেয়।








