Home বাংলাদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম বাজেট: স্থিতিশীলতা ও স্বস্তির বার্তা

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম বাজেট: স্থিতিশীলতা ও স্বস্তির বার্তা

104
0
blank

স্টাফ রিপোর্ট:

স্বাধীনতার পর ৫৪তম জাতীয় বাজেট পেশ করা হলো সোমবার (২ জুন)। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। এই বাজেট পেশ করেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। এটি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম বাজেট।

বাজেট বক্তৃতার শুরুতে অর্থ উপদেষ্টা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের পাশাপাশি স্মরণ করেন ২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের। তিনি বলেন,

“২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের এক ক্রান্তিকালে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। আমাদের কাজ ছিল বিগত সরকারের রেখে যাওয়া প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার ও নৈরাজ্য দূর করে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা। স্বস্তি ও গর্বের সাথে জানাতে চাই, ১০ মাসের কম সময়েই আমরা অনেকদূর এগিয়ে গেছি। ইনশাল্লাহ, সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পারব।”

বাজেটের মধ্যে রাজস্ব আয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আদায় করবে ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা এবং অবশিষ্ট ৬৫ হাজার কোটি টাকা আসবে অন্যান্য উৎস থেকে।

বাজেট ঘাটতি নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। এই ঘাটতির মধ্যে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা পূরণ হবে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এবং ১ লাখ ১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে বৈদেশিক ঋণ ও সহায়তা থেকে।

পরিচালন ও অন্যান্য খাতে ব্যয়: ৫ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা

এডিপি বরাদ্দ: ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা

বেতন-ভাতা: ৯৭ হাজার কোটি টাকা

সুদ পরিশোধ: ১ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা

বিদ্যুৎ ও সার খাতে ভর্তুকি: ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি: প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা

সাধারণ ব্যাংক গ্রাহকদের জন্য বাজেটে উল্লেখযোগ্য স্বস্তির ঘোষণা এসেছে। আগে ব্যাংকে বছরে একবার এক লাখ টাকার বেশি জমা হলে ১৫০ টাকা আবগারি শুল্ক দিতে হতো। এবার সেই সীমা বাড়িয়ে তিন লাখ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ, তিন লাখ টাকার কম জমায় আর আবগারি শুল্ক দিতে হবে না।

জিডিপি প্রবৃদ্ধি: ৫ দশমিক ৬ শতাংশ

মূল্যস্ফীতি: ৬ দশমিক ৫ শতাংশ

এই বাজেটকে অন্তর্বর্তী সরকার “সংকোচনমূলক” বাজেট হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অর্থ উপদেষ্টার ভাষায়, “এই বাজেট সামষ্টিক স্থিতিশীলতা, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে।”

স্বাধীনতা-পরবর্তী প্রথম বাজেট পেশ করেছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ ১৯৭২ সালের ৩০ জুন। বাজেটের আকার ছিল মাত্র ৮ কোটি ৬২ লাখ টাকা। সেই থেকে ২০২৫ সালের এই বাজেট পর্যন্ত পেরিয়ে গেছে ৫৩টি বাজেট।

২০০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও সংসদের বাইরে বাজেট ঘোষণা করা হয়েছিল। তখন অর্থ উপদেষ্টা ছিলেন মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম।

এই বাজেট এমন এক সময়ে পেশ হলো, যখন অন্তর্বর্তী সরকার গণঅভ্যুত্থানের পর দায়িত্ব নিয়ে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার জন্য কাজ করছে। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা, রাজস্ব শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করাই এবারের বাজেটের মূল লক্ষ্য।