কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে জমি সংক্রান্ত পুরনো বিরোধ এক নারকীয় ট্র্যাজেডিতে রূপ নেয়। দুই তরুণী ভাতিজিকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি মাসুক আলী (৫২) অবশেষে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। এলাকাবাসীর সহায়তায় তাকে বুধবার বিকেলে আদমপুর ইউনিয়নের মধ্যভাগ গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গত মঙ্গলবার (৩ জুন) বিকেলে, দক্ষিণ কাঁঠালকান্দি গ্রামের ধানক্ষেতে কাজ করছিলেন শারমিন ও মিম—দুই বোন। হঠাৎই হামলে পড়ে আপন চাচা মাসুক আলী, তার ছেলে বাবু আহমেদ ও স্ত্রী রাহেনা বেগম। তাদের হাতে ছিল দেশীয় ধারালো অস্ত্র। মুহূর্তেই আক্রমণ শুরু হয়। এলোপাতাড়ি কোপে শারমিন ও মিমের দেহ ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়। শারমিনের দুই হাত এবং মিমের এক হাতের কব্জি কেটে ফেলা হয় ঘটনাস্থলেই।
তাদের বাঁচাতে এগিয়ে যান মা হাজেরা বেগম, কিন্তু তাকেও কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। বর্তমানে তিনি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন, এখনও জ্ঞান ফেরেনি।
হত্যাকাণ্ডের পরদিন, নিহত শারমিনের স্বামী আব্দুস শহীদ বাদী হয়ে মাসুক আলীসহ চারজনের বিরুদ্ধে কমলগঞ্জ থানায় মামলা করেন। থানার ওসি আবু জাফর মো. মাহফুজুল কবীর যমুনা সংবাদকে জানান, “আটক মাসুক আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এসআই আব্দুস শহীদ ও এএসআই হামিদসহ পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাসুক আলী ও তার ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। একসময় যা আদালতের পথে গড়িয়েছিল, এখন তা রক্তের বদলা হিসেবে দুই তরুণী প্রাণ নিয়ে নিল। এই ঘটনা কমলগঞ্জ জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও শোকের ছায়া ফেলেছে।
গ্রামবাসীরা বলছেন, এমন নিষ্ঠুরতা আগে কখনো দেখেননি। “নিজের ভাইয়ের মেয়েদের এমনভাবে হত্যা করতে পারে একজন মানুষ, এটা বিশ্বাসই হচ্ছে না,” বলেন এক প্রতিবেশী। এলাকাবাসী দ্রুত সকল আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।








