আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
দীর্ঘ প্রায় তিন বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে অবশেষে শান্তি আলোচনার টেবিলে বসেছে দুই দেশ। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম BRICSNEWS-এর সূত্রে জানা গেছে, আজ সোমবার (২ জুন ২০২৫) ইস্তাম্বুলে শুরু হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত শান্তি আলোচনা। এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে তুরস্ক, যারা ইতিপূর্বেও কৃষ্ণসাগরীয় শস্যচুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে সহায়ক হয়েছিল।
বিশ্ব রাজনীতির জন্য এ ঘটনাটি এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়ের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের ফলে একটি কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজতে বাধ্য হয়েছে। BRICS গোষ্ঠীর একাধিক সদস্য রাষ্ট্র যেমন চীন, ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ইতিমধ্যেই এই আলোচনায় সক্রিয় সমর্থন জানিয়েছে।
সূত্র জানায়, প্রথম দফার আলোচনায় যুদ্ধবিরতির শর্ত, বন্দি বিনিময়, ক্ষতিপূরণ, এবং ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর ঘোষণা আসেনি।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেজেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এই শান্তি উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং বলেছেন, “ইস্তাম্বুল এই ঐতিহাসিক সমঝোতার সূচনা হতে পারে যা বিশ্বকে আরেকটি বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরিয়ে আনবে।”
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজার, খাদ্য নিরাপত্তা ও শরণার্থী সংকটের প্রেক্ষিতে এই আলোচনা বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নও আলোচনা সফল করার আহ্বান জানিয়েছে।
এই আলোচনা যদি ইতিবাচক দিকে অগ্রসর হয়, তবে তা শুধু রাশিয়া ও ইউক্রেন নয়, গোটা ইউরোপ এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্যই এক বিশাল স্বস্তির বার্তা হবে। তবে এখনো আশঙ্কা রয়ে গেছে — একে স্থায়ী শান্তিতে রূপ দিতে হলে আন্তর্জাতিক সমাজকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।








