যমুনা সংবাদ ডেস্ক:
বাংলাদেশ সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় দেশের বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিকদের জন্য চালু রয়েছে **‘বয়স্ক ভাতা’**। এই ভাতার উদ্দেশ্য হলো অসচ্ছল ও নির্ভরশীল প্রবীণদের জন্য ন্যূনতম আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা। তবে এ সুবিধা পেতে হলে কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও কাগজপত্র পূরণ করা আবশ্যক।
✅ কারা এই ভাতা পাওয়ার যোগ্য?
🔹 পুরুষদের ক্ষেত্রে: জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী বয়স ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব হতে হবে।
🔹 নারীদের ক্ষেত্রে: বয়স হতে হবে ৬২ বছর বা তদূর্ধ্ব।
🔹 আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
🔹 বার্ষিক আয় ১০,০০০ টাকার কম হতে হবে।
🔹 আবেদনকারীর সচল বিকাশ অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে, যাতে ভাতার টাকা সরাসরি পাঠানো যায়।
🔹 আবেদনকারী কোনো সরকারি পেনশন বা ভাতা পাচ্ছেন না— এমন হতে হবে।
📄 যেসব কাগজপত্র লাগবে:
1. ভোটার আইডির ফটোকপি
2. দুই কপি সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজ ছবি
3. সচল বিকাশ নম্বর (ভাতার অর্থ প্রদানের জন্য)
4. জন্ম সনদ ও নাগরিকত্ব সনদ (ন্যাশনালিটি সার্টিফিকেট)
5. স্থানীয় ইউপি সদস্য বা চেয়ারম্যানের সুপারিশপত্র
❌ কারা এই ভাতা পাবেন না?
✖ যাদের বয়স নির্ধারিত সীমার নিচে
✖ যারা ইতোমধ্যে কোনো সরকারি ভাতা বা পেনশন গ্রহণ করছেন
✖ বাংলাদেশি নাগরিক নন
✖ শারীরিক বা মানসিকভাবে সম্পূর্ণভাবে সক্ষম ব্যক্তি
✖ যেসব আবেদনকারী ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত
✖ মিথ্যা তথ্য বা জাল কাগজপত্র দাখিল করলে
📝 কীভাবে আবেদন করবেন?
প্রথমে নিকটস্থ ইউনিয়ন পরিষদ, সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিস বা পৌরসভা কার্যালয় থেকে নির্ধারিত আবেদন ফরম সংগ্রহ করুন। যথাযথভাবে ফরম পূরণ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ জমা দিন। একাধিক স্তরে যাচাই-বাছাই শেষে উপযুক্ত আবেদনকারীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়।
⚠️ প্রতারণা থেকে সাবধান!
কেউ যদি টাকার বিনিময়ে বয়স্ক ভাতা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেয়, তাহলে সেটি স্পষ্টভাবে প্রতারণা হতে পারে। এমন প্রলোভনে পা না দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
নিজের প্রাপ্য সুবিধা নিজের হাতেই নিন — সচেতন হোন, প্রতারিত হবেন না।








