নিউজ ডেস্ক:
রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া নিবন্ধন ফিরিয়ে দিতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) নির্দেশ দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। আজ রবিবার (১ জুন ২০২৫) প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ রায় দেন।
এই রায়ের মাধ্যমে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের বিষয়ে হাইকোর্টের ২০১৩ সালের রায় বাতিল হয়ে গেছে। সুপ্রিম কোর্টের এ নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে জামায়াতের নিবন্ধন পুনর্বহাল করতে হবে।
আদালতে জামায়াতের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিক, ব্যারিস্টার ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিক, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির, ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন ও ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম।
রায়ের পর জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সংক্ষেপে লেখেন, “আলহামদুলিল্লাহ”।
সর্বশেষ শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে আইনজীবী আদালতকে জানান, তারা আপিল বিভাগের রায়ের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সুপ্রিম কোর্টের একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক ইতিমধ্যে রাজনৈতিক প্রতীকের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। জামায়াতের নিবন্ধন পুনর্বহাল হলেও দলটিকে বিকল্প প্রতীক বেছে নিতে হবে।
তবে জামায়াতের আইনজীবীরা দাবি করছেন, ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিষিদ্ধ করার বিষয়ে আদালতের কোনো সুনির্দিষ্ট রায় নেই। ফলে দলটি চাইলে পূর্বের প্রতীকেই ফিরে যেতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১ আগস্ট একটি রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ৭ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন প্রজ্ঞাপন জারি করে আনুষ্ঠানিকভাবে দলটির নিবন্ধন বাতিল করে দেয়।
এই রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নিষ্ক্রিয় থাকা জামায়াতের সামনে ফের সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় হওয়ার নতুন দ্বার খুলে গেল।








