Home দেশ সংবাদ স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও কাঁচা, কমলগঞ্জে উন্নয়নবঞ্চিত দুই কিলোমিটার সড়ক

স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও কাঁচা, কমলগঞ্জে উন্নয়নবঞ্চিত দুই কিলোমিটার সড়ক

65
0
blank

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী যোগীবিল, চেরারপার, লাংলিয়া, শিবপুর নাথপাড়া ও আলীনগর চা-বাগানের প্রায় পাঁচ থেকে সাত হাজার মানুষ আজও ন্যূনতম চলাচলের সুবিধা থেকে বঞ্চিত। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও মাত্র দুই কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা পাকা হয়নি। নেই বিকল্প পথও, ফলে এই দুর্দশার পথই তাদের প্রতিদিনের সঙ্গী।

রোববার ১ জুন সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, যোগীবিল গ্রামের কনুবাবুর বাড়ি থেকে শুরু হয়ে লাংলিয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্র হয়ে আদমপুর বাজার পর্যন্ত রাস্তাটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। বর্ষায় রাস্তাটি কাঁদায় পরিণত হয়; খানাখন্দ ও পাড়ধসে পথ চলা হয়ে পড়ে বিপজ্জনক। চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি কার্যত অচল হয়ে পড়ে, ফলে রোগী পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে সৃষ্টি হয় চরম ভোগান্তি।

স্থানীয় বাসিন্দা আফতাব মিয়া বলেন, “একটা রোগীকে হাসপাতালে নিতে গেলে চার-পাঁচ জন লোক মিলে কাঁধে করে নিতে হয়। গাড়ি তো ঢুকতেই পারে না।”

একই গ্রামের বাসিন্দা হাসিনা বেগম বলেন, “বর্ষাকালে এত খারাপ অবস্থা হয় যে, অনেক সময় বিয়েও ভেঙে গেছে এই রাস্তার কারণে।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিন জানান, “এই রাস্তাটি পাকাকরণে ব্যক্তিগতভাবে বহুবার আবেদন করেছি, কিন্তু এখনও কোনো অগ্রগতি নেই।”

ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিরজনা বেগম হেনা বলেন, “বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে। তারা আশ্বাস দিলেও কাজের বাস্তব রূপ এখনও দেখা যাচ্ছে না।”

তবে উপজেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুর রাকিব ও ইউএনও মাখন চন্দ্র সূত্রধর এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

উপজেলা প্রশাসনের এমন বক্তব্যে হতাশ স্থানীয়রা বলছেন, আশ্বাসের প্রতিশ্রুতি তারা বছরের পর বছর শুনছেন। এবার তারা বাস্তব উন্নয়ন চান।

গ্রামবাসী জয়নাল আবেদীন বলেন, “স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও আমরা হাঁটতে পারি না। এটা কি স্বাভাবিক? অন্তত দুই কিলোমিটার রাস্তাই যদি পাকা না হয়, তাহলে আমাদের স্বাধীনতার মূল্য কোথায়?”