আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা আবারও নতুন মাত্রা পেল। যুক্তরাষ্ট্র সরকার জানিয়েছে, চীনের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য আলোচনা বর্তমানে “স্থবির” অবস্থায় রয়েছে। (৩০ মে ২০২৫) ব্রিকস নিউজ সূত্রে পাওয়া এ তথ্য বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র জানান, “চীনের সঙ্গে আমাদের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ইস্যুতে অগ্রগতি হয়নি। অতএব, আলোচনা এখন কার্যত স্থবির হয়ে আছে।” তবে আলোচনার পুনরারম্ভের সম্ভাবনা এখনও পুরোপুরি নাকচ করা হয়নি বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই স্থবিরতা যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদি শুল্ক যুদ্ধ, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও কৌশলগত প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবেই দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে মাইক্রোচিপ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ ঘিরে দুই দেশের উত্তেজনা বাড়ছে।
বিশ্ববাজারে এরইমধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের দাম কমেছে, চীনের ইউয়ান দুর্বল হয়েছে, আর তেল ও স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে ঢাকার একজন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষক মন্তব্য করেন, “যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক শুধু দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের বিষয় নয়, এটি পুরো বৈশ্বিক অর্থনীতিকে প্রভাবিত করে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্যও এটি বড় ধরনের অস্থিরতা ডেকে আনতে পারে।”
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বিশেষ করে BRICS ও G7 জোটের সদস্যরা এ অবস্থার দিকে কড়া নজর রাখছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান এই অচলাবস্থা যদি দীর্ঘায়িত হয়, তবে বিশ্বজুড়ে পণ্যদ্রব্যের দাম, মুদ্রা বিনিময় হার এবং বিনিয়োগ প্রবাহে বিরূপ প্রভাব পড়বে।








